এই শোনো, অামার সামনে পরীক্ষা। তাই অামি চাই না পরীক্ষার অাগে অার তোমার
সাথে কোন যোগাযোগ রাখতে। অার শোনো তুমি এই সময়টায় কিন্তু অন্য কোনো মেয়ের
প্রেমে পরবা না। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো শেষ করে মেয়েটা। তারপর খিলখিল করে
হেসে বলে, মনে থাকবে তো অামার কথা? ছেলেটা চুপ করে থাকে। কি বলবে ঠিক বুঝে
উঠতে পারে না। ছেলেটা সত্যিই মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসে। তাই ছেলেটা মেয়েটির
শর্তে রাজি হয়। ছেলেটার মনে যে কি ঝড় চলছে তা সে মেয়েটাকে বুঝতে দেয় না।
ছেলেটা এখন সময়ের হাতে বন্দী। গল্পের ট্রাজেডীর শুরুটা ছিল এমন।
মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
সারাফাত করিম আয়না
ভোরের বাহিরের বাতাসটা শরীরে লাগলে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সকালে গোসল
করতে গেলে গাঁ কাটা দিয়ে উঠছে। ও নারকেল তেল ও একটু একটু জমাট বাঁধতে শুরু
করছে। তার মানে শীত চলে অাসছে। বোঝো নাই ব্যাপারটা???
সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
এক টাকা
গতকালটা যে কখন গত হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। খুব বেশি খুশি হয়ে যাওয়ার পর
টান্না( খুশির বিপরীত শব্দ) পেয়ে যাওয়া হয়তো তার একটা কারন হতে পারে। অতি
প্রয়োজনের সময় যে জিনিসটা কখোনই খুঁজে পাওয়া যায় না, প্রয়োজন শেষে কি এক
অদ্ভুত কারনে ঐ জিনিসটাই সবার আগে চোখে পড়ে যায়। আমার ১৫ বছর আগের কোন
প্যান্টের পকেটে যদি এক টাকার একখানা চকচকে নোট হঠাৎ এই ২০১৬ সালে পেয়ে
যাই, যে নোটটি আমি আতিপাতি করে অনেক খুঁজেছি কিন্তু কখনোই পাই নি। তা হলে
বোধ হয় খুশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরক্ষনেই যখন চিন্তা করে
দেখলাম যে, এই এক টাকায় এই যুগের দোকানদার তো একটা চকলেট ও দিবে না। তখনই
মনটা খারাপ হয়ে গেল। দোকানদারের কাছে হয়তো টাকাটার কোন মূল্য নেই কিন্তু
আমার কাছে টাকাটার মূল্য অমূল্য। এত সব তুল্য-মূল্যের হিসাব করতে করতে কখন
যে রাতটা শেষ হয়ে গেল টেরই পেলাম না। না আমি কোন স্বপ্ন দেখছি না,
দেখাচ্ছিও না। শুধু এইটুকু জানি, রাতের ক্রান্তিলগ্নই তো ভোরের সূর্যোদয়।
হোক না আরেকটা নতুন দিনের শুরু।
স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ
আমার কাছে স্বপ্ন মানে মনে হয়, মাল্টিপল কালারের পাওয়ার হাউজ। নানান বয়েসে, নানান সময়ে, নানান ক্ষনে যার শুধু কালার চেন্জ হয়। স্বপ্নভঙ্গ... আমার কাছে স্বপ্নভঙ্গ মানে হচ্ছে- সব কালার গুলো একত্রিত হয়ে
একটি কালারে পরিনত হওয়া। আমার কাছে সেই রঙটা কালো বলে মনে হয়। স্বপ্নভঙ্গ
হয়ে যাওয়া ঐ মানুষটা তখন তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না।
তবে কারও স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে, সে নতুন করে আর কোন স্বপ্ন
দেখতে পারবে না। যখন সব রঙ ফিকে হয়ে যায় তখন ঐ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে
যাওয়া মানুষটির হয়তো মনে হতে থাকে, তার জীবনের রঙটাও কালো অন্ধকারে আস্তে
আস্তে ঢেকে যাচ্ছে। তবে কালোরও হয়তো কিছু ভাল দিক আছে।
কালো রঙটা কিন্তু অন্য সব রঙের বাইরে নয়। অন্যান্য রঙের মতো তারও কিছু
নিজস্ব স্বকিয়তা আছে। গোধূলীলগ্ন থেকে রাত হওয়া অবধি একটু খেয়াল করলেই
দেখতে পাবেন কালো রঙের পরিরর্তনটা। সব থেকে ভালো ভাবে আপনি কালো রঙের রূপটা
অবলোকন করতে পারবেন অমাবস্যার কোন এক রাতে। তার মানে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে
যাওয়ার মানে এই নয় যে, আপনার জীবন অমাবস্যার অন্ধকারের মতো ঢেকে যাচ্ছে।
আমার কাছে মনে হয় একটি স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাওয়া মানে হাজারও স্বপ্নের দ্বার
উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া। স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমরা হাজারো স্বপ্ন দেখা তো
ভুলে যেতে পারি না। তানা হলে হয়তো জীবনটাই থেমে যাবে। হ্যাঁ এইটাও ঠিক
রাতারতি তে আর সব স্বপ্ন পূরন হয়ে যাবে না। তবে অমাবস্যার ঘোর কালো অন্ধকার
কেটে নির্দিষ্ট সময় পর কিন্তু পৃথিবীটা পূর্নিমার আলোয়ও একসময় উদ্ভাসিত
হয়। তাই আমাদের সাদাকালো স্বপ্নগুলো অমাবস্যার কালোয় ঢেকে না যেয়ে
পূর্নিমার আলোর মতো আরও আলোকিত হয়ে উঠুক। আর সেই আলোকছটা রঙিন হয়ে ছড়িয়ে
পড়ুক সারাবিশ্বে।
অপেক্ষা
থাকুক না ভালো লাগার মানুষগুলো তাদের মতো করে। যদি কিছু বলতে বা বোঝাতে যাই
হয়তো বোঝার থেকে ভুল ই বেশি বুঝবে। এই ক্ষেত্রে অপেক্ষাটাই শ্রেয় বলে মনে
হয় (ব্যক্তিগত মত)। হয়তো অপেক্ষার সমাপ্তি এই জীবনে কখনোই হবে না। তাই বলে ঐ
মানুষগুলোর প্রতি ভালোলাগা বা শ্রদ্ধাবোধ আগের মতোই কনসট্যান্ট থাকবে।
#জীবন থেকে নেওয়া
ছেলে : রান্নাঘরে ঢুকছেন কখনো? মেয়ে : জ্বী, আমি
নিজেই রান্না করি। ছেলে : মাসআল্লাহ। তা কখনো গরম
তেলের মধ্যে এক ফোটা পানি দিলে কেমন সাউন্ড হয় শুনছেন কখনো?
মেয়ে। : আপনি কি আমার সাথে
মজা করেন? ছেলে : দীর্ঘশ্বাস ফেলে... আপনার কাছে যেটা কমেডি আমার
কাছে ঐটা ট্রাজেডি।
তিলোত্তমা
কাউকে মন থেকে ভস্ম করে উড়িয়ে দিতে সাতটি কমার(,,,,,,,)বিপরীতে শুধুমাত্র
একটি দাড়ি(।) ই যথেষ্ট। ধরে নিলাম, আমি দাড়ি সে কমা। তার কাছে চাইছি আমি
নিঃসার্থ ক্ষমা। ভালো থেকো সবসময় তিলোত্তমা...
#উপলব্ধিবোধ
আপনার কি প্রচন্ড রকমের মন খারাপ? মনের মধ্য়ে কি নিকষ কালো মেঘ জমে আছে?
আমার কাছে কি মনে হয় জানেন? মন খারাপ বলে কিছু নেই। আপনি আপনার নিজের মনটা
ইচ্ছে করেই খারাপ করে রেখেছেন হয়তো। সেই জন্যেই মন খারাপ নামক ব্যাধি
আপনাকে আকড়ে ধরেছে। আপনার কিছু ভালো লাগছে না? জোর করে কিছু ভালো লাগার
চেষ্টা করার দরকার নাই। আমাদের চারপাশে ভালো ভালো উপকরনের কোন অভাব নেই।
শুধু আপনার অনুসন্ধানী চোখকে কাজে লাগান আর মনকে বুঝতে দিন। দেখবেন আপনার
মন এমনিতেই ভালো থাকবে। নিজে ভালো কাজের সাথে সম্প্রিক্ত থাকুন আর অন্যকেও
ভালো কাজের প্রতি অনুপ্রেরনা দিন। অন্য কেউ তা গ্রহন করুক আর বর্জন করুক,
দিনশেষে আপনার মনটা কিন্তু ভালো থাকবে।
#ভাবের বহিঃপ্রকাশ
কেউ আপনার সাথে ভয়ানক খারাপ ব্যবহার করলো। কিংবা যে ব্যবহারটা আপনি তার
কাছে আশাই করেন নি, সে হয়তো সেই খারাপ ব্যবহারটাই আপনার সাথে করে বসলো। তখন
আপনার মনটা বিষন্ন হওয়াই স্বভাবিক। আপনি যদি অতি বিচার বিশ্লেষন না করে
খালি চোখে কারনটা জানতে চান, তা হলে এর কারন দুটি। একঃ সে ইচ্ছে করেই আপনার
সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। দুইঃ আপনি যখন কোন বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা
বলছিলেন অন্য কোন কারনে হয়তো তার মনটা ঐ মুহূর্তে তেতে ছিলো, যার ঝাঁঝ হয়তো
আপনার উপর ঝারছে। ইচ্ছে করেই যারা খারাপ ব্যবহার করে এটা তাদের
মজ্জাগতো অভ্যাস। আর যারা ইচ্ছে না করেই খারাপ ব্যবহার করে বসে তাদের কারন
"কারন দুই।" এখন কোন ব্যাক্তি যদি আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকে তা
হলে আপনি সবসময় ভাববেন ঐ বিশেষ মুহূর্তে হয়তো ঐ ব্যক্তির মনটা হয়তো অন্য
কারনে বিষিয়ে ছিলো। বাসায় বসে স্বমীর জন্য অপেক্ষায় থাকা গৃহবধূর জন্য হয়তো
বৃষ্টিটা উপভোগ্য হতে পারে কিন্তু বাসায় ফিরতে ব্যাকুল স্বমীর জন্য
বৃষ্টিটা বিরক্তি কর। একই বৃষ্টি কিন্তু আবস্থানভেদের কারনে তা দুজনের কাছে
দুরকম। তাই কারও অবানচিতো খারাপ ব্যবহারে মনকে যদি বিষন্নতার সাগরে ডুবে
না দিতে চান তাহলে সবসময় এইটা ভাবুন, আপনার তার সাথে কথা বলার জন্য হয়তো ঐ
সময়টা পারফেক্ট ছিলো না। আর হ্যাঁ মনকে বিষন্নতার হাত থেকে বাঁচাতে অনেক
পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। খারপ পন্থাগুলো হয়তো সাময়িকভাবে কার্যকর হতে
পারে। কিন্তু তা কখনোই দীর্ঘস্থায়ি সমাধান নয়।
Old is Gold
নতুন জিনিস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুব ভালো লাগে। কারন অন্যরকম একটা চাকচিক্য,
জৌলস, ও সৌন্দর্য তার মধ্যে থাকে। এমনকি তার গন্ধেও নেশা ছড়ায়। নতুন জামা,
নতুন প্যান্ট এমনকি বড় বড় করকরে টাকার সুগন্ধি নোট সবসময়ই মনে একটা
ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই বলে, যে জিনিসটা পুরানো হয়ে যাবে তার
জন্য কি পড়ে থাকবে শুধুই অবহেলা, অবগ্গা? আপনার একটা সব থেকে নতুন প্রিয়
জামাটা যখন পুরানো হয়ে যাবে তখন জামাটা আপনি পড়বেন কি পড়বেন না তা আপনার
রুচির ব্যাপার। জামাটা পড়ার অযোগ্য হয়ছে বলে আপনি চাইলেই আপনার প্রিয়
পুরানো জামাটা ফেরিওয়ালার কছে অতি সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দিতে পারেন।
আবার চাইলেই আপনি আপনার প্রিয় পুরানো জামাটা স্বযত্নে আলমারিতে তুলে রাখতে
পারেন। হয়তো জামাটা কখনোই আকাশচুম্বী এন্টিক হিসাবে বিক্রি হবে না। কিন্তু
জিনিসটা যদি আপনার কাছে প্রিয় হয়, পছন্দের হয় তা হলে তার দাম কখনো মূল্য
দিয়ে চুকানো যায় না।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
